ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রে সুরের জাদু: নতুন বাজানোর কৌশল যা আপনাকে অবাক করবে!

webmaster

전통 악기 연주 기법 - **Prompt:** "A captivating image of a serene Bengali folk musician (Baul) in traditional, modest att...

আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলো শুধু সুরের আধার নয়, তারা আমাদের সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি। প্রতিটি তার, প্রতিটি ছন্দে লুকিয়ে আছে হাজার বছরের গল্প আর এমন কিছু বাজানোর কৌশল যা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। আজকাল অনেকেই ভাবছেন, কীভাবে এই পুরনো সুরগুলোকে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আরও প্রাণবন্ত করা যায়, বা নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের আকর্ষণীয় করে তোলা যায়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সঠিক চর্চা আর নিবেদন থাকলে এই যন্ত্রগুলো থেকে অসাধারণ সুর বের করা সম্ভব, যা মনকে ছুঁয়ে যায়। এই লুকানো জাদুগুলোর গভীরে ডুব দিতে চান?

전통 악기 연주 기법 관련 이미지 1

তাহলে চলুন, ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বাজানোর সেই সব গোপন কৌশল এবং তাদের পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

আমাদের ঐতিহ্যের সুর: লুকানো রত্নগুলো খুঁজে দেখা

আমাদের বাংলার মাটির গন্ধ মেখে থাকা বাদ্যযন্ত্রগুলো যেন এক একটি চলমান ইতিহাস। বাঁশের বাঁশি থেকে শুরু করে তারের সেতার, সরোদ, একতারা—প্রতিটি যন্ত্রের নিজস্ব এক গল্প আছে, এক নিজস্ব সুর আছে। আমি যখন প্রথম একতারা হাতে নিয়েছিলাম, তখন অনুভব করেছিলাম যেন আমার দাদু-দিদিমার সময়ের গল্পগুলো আমার হাতে চলে এসেছে। আজকের দিনে স্মার্টফোন আর ল্যাপটপের ভিড়ে হয়তো অনেকেই ভাবেন, এই যন্ত্রগুলো কি শুধুই পুরনো দিনের জিনিস? কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই সুরগুলো আমাদের আত্মাকে এতটাই ছুঁয়ে যায় যা আর কোনো কিছুতে সম্ভব নয়। আমাদের ঐতিহ্যের এই রত্নগুলোকে নতুন করে চেনা, তাদের গভীরে ডুব দেওয়াটা যেন এক নতুন জীবন পাওয়ার মতো। গ্রামের মেলায় যখন দেখতাম কোনো বাউল একতারা হাতে গান গাইছেন, তখন মনে হতো যেন তিনি আমাদের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। এই যন্ত্রগুলো কেবল গান বাজানোর মাধ্যম নয়, এগুলি আমাদের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তাদের ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াটা আমাদের সবারই দায়িত্ব। এই যাত্রায় আমরা কেবল একজন বাদ্যযন্ত্রীই হয়ে উঠি না, হয়ে উঠি এক সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি, এক ইতিহাসের সাক্ষী।

যন্ত্রের সাথে প্রথম আলাপ: ভালোবাসা তৈরির সূত্র

যেকোনো ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র শেখার প্রথম ধাপ হলো তার সাথে একটা আত্মিক সম্পর্ক তৈরি করা। অনেকে প্রথমেই খুব জটিল বাজানোর কৌশল খুঁজতে যান, কিন্তু আমার মতে, প্রথমে যন্ত্রটিকে বুঝতে শেখা জরুরি। সেতার বা সরোদ যখন আমি প্রথম হাতে নিয়েছিলাম, তখন এর গঠন, তারগুলো কিভাবে সাজানো আছে, কোন তারে কেমন শব্দ হয়—এসব নিয়ে অনেক সময় ব্যয় করেছিলাম। এতে যন্ত্রের প্রতি এক ধরনের ভালোবাসা জন্মে যায়, যা শেখার আগ্রহকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মনে রাখবেন, যন্ত্রটি আপনার বন্ধু, প্রতিপক্ষ নয়। প্রতিটি তারের স্পর্শে যেন আপনার মনের ভাব ফুটে ওঠে, সেই চেষ্টা করতে হবে। এটা অনেকটা নতুন কোনো বন্ধু বানানোর মতো। ধীরে ধীরে তাকে চিনতে হয়, বুঝতে হয়, তার সাথে সময় কাটাতে হয়। যত বেশি সময় দেবেন, তত বেশি আপনার যন্ত্রটি আপনার মনের কথা বুঝতে পারবে এবং সেই অনুযায়ী সুর তৈরি করতে সাহায্য করবে।

লুকানো সুরের রহস্য উন্মোচন: প্রাচীন কৌশলগুলো ফিরে দেখা

আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলোতে এমন অনেক বাজানোর কৌশল আছে যা হয়তো লিখিতভাবে সেভাবে পাওয়া যায় না, কিন্তু গুরু-শিষ্য পরম্পরায় যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। যেমন, বাঁশির ফুঁক দেওয়া বা তবলার চাটি মারা—এগুলির পেছনে রয়েছে বহু বছরের সাধনা আর সূক্ষ্মতা। আমি যখন আমার গুরুজীর কাছে প্রথম সেতার বাজানো শিখতে যাই, তখন তিনি আমাকে শুধু স্বরলিপি শেখাননি, শিখিয়েছিলেন সুরের ভেতরের অনুভূতিটা। বলেছিলেন, “সুর শুধু বাজানো নয়, অনুভব করা।” এই ছোট ছোট কৌশলগুলোই একটি যন্ত্রের বাজানোকে প্রাণবন্ত করে তোলে। অনেক সময় কিছু বিশেষ গিট বা মীড় থাকে যা কেবল শুনেই রপ্ত করতে হয়। ইন্টারনেটের এই যুগে হয়তো সব তথ্য সহজে পাওয়া যায়, কিন্তু এই বিশেষ কৌশলগুলো শেখার জন্য একজন অভিজ্ঞ গুরুর সান্নিধ্য অত্যাবশ্যক। কারণ এই কৌশলগুলো যন্ত্রের প্রাণ, যা শুধু স্পর্শ আর অনুভূতি দিয়েই শেখা যায়।

প্রাচীন সুরের পুনরুজ্জীবন: আধুনিক যুগে নতুন প্রাণ

প্রাচীন সুরগুলোকে নতুন করে বাঁচিয়ে তোলার গুরুত্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। একসময় এসব যন্ত্র হয়তো শুধু নির্দিষ্ট কিছু অনুষ্ঠানে বা লোকসংগীতে সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু এখন আমরা দেখছি আধুনিক সংগীতের সাথেও এর একটা দারুণ মেলবন্ধন ঘটছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আমাদের ঐতিহ্যবাহী যন্ত্রগুলো এতটাই বহুমুখী যে এদের যেকোনো ধরনের সঙ্গীতেই ব্যবহার করা যায়। যেমন, সেতার বা বাঁশির সুর আধুনিক ফিউশন সংগীতে যখন ব্যবহৃত হয়, তখন এর এক নতুন মাত্রা যোগ হয়। আমি নিজেই বেশ কিছু পরীক্ষামূলক প্রজেক্টে এই ধরনের কাজ করেছি এবং ফলাফল দেখে মুগ্ধ হয়েছি। তরুণ প্রজন্ম এখন ওয়েস্টার্ন মিউজিকের দিকে বেশি ঝুঁকছে, কিন্তু যদি আমরা এই যন্ত্রগুলোকে আধুনিক কায়দায় উপস্থাপন করতে পারি, তাহলে তাদের আগ্রহ তৈরি হবে। এটা কেবল যন্ত্র বাজানো নয়, এটা আমাদের সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার এক প্রয়াস। আর এই প্রয়াস সফল করতে হলে পুরনো ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে এসে নতুন কিছু করতে হবে। পুরনো পদ্ধতিগুলো বজায় রেখেও আধুনিক প্রযুক্তি এবং নতুন সুরের সাথে এর সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব।

ফিউশন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা: নতুন দিগন্তের উন্মোচন

ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ফিউশন মিউজিক বা নতুন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোটা এখন খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকেই ভাবেন, এতে হয়তো যন্ত্রের ঐতিহ্য নষ্ট হয়, কিন্তু আমার মনে হয় এটা বরং যন্ত্রের ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। আমি একবার আমার বন্ধুর সাথে একটি ইলেকট্রনিক মিউজিক ট্র্যাকে বাঁশি বাজিয়েছিলাম, আর সেই অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। বাঁশির মিষ্টি সুর যখন আধুনিক বিটের সাথে মিশে গিয়েছিল, তখন শ্রোতারা এক নতুন ধরনের সঙ্গীত শুনতে পেয়েছিলেন। এই ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা তরুণদের মধ্যে এই যন্ত্রগুলোর প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে পারে। একজন শিল্পী হিসেবে আমাদের কাজই হলো নতুন কিছু চেষ্টা করা, নতুন পথ খুঁজে বের করা। ভয় না পেয়ে যদি আমরা সাহস করে ঐতিহ্যবাহী যন্ত্রগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করি, তাহলে এর ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে। যেমন, শাস্ত্রীয় সংগীতে ব্যবহৃত সরোদকে যখন রক বা জ্যাজ সুরের সাথে মিলিয়ে বাজানো হয়, তখন এর আবেদন সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঐতিহ্য: বিশ্বব্যাপী পরিচিতি

আজকের দিনে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলোকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার এক দারুণ সুযোগ করে দিয়েছে। ইউটিউব, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে একজন শিল্পী খুব সহজেই তার যন্ত্রের বাজানো শেয়ার করতে পারেন। আমি আমার নিজের কিছু ভিডিও আপলোড করে দেখেছি, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, এমনকি ইউরোপ থেকেও মানুষ আমাদের যন্ত্রগুলো নিয়ে জানতে চাইছে। এতে কেবল জনপ্রিয়তাই বাড়ে না, বাড়ে নতুন শিক্ষার্থীদের আগ্রহও। অনলাইন ক্লাস বা টিউটোরিয়াল তৈরি করেও এই যন্ত্রগুলোকে শেখানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটি কেবল আমাদের সংস্কৃতিকে প্রচারই করে না, বরং শিল্পীদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগও তৈরি করে। একজন শিল্পীর পক্ষে সারা বিশ্বে ঘুরে ঘুরে পরিবেশনা করা সবসময় সম্ভব হয় না, কিন্তু ডিজিটাল মাধ্যম এই দূরত্বকে ঘুচিয়ে দিয়েছে। এখন যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষ আমাদের সুর শুনতে পাচ্ছে, শিখতে পারছে এবং এর সাথে নিজেদের সংযুক্ত করতে পারছে।

Advertisement

যন্ত্রের সাথে মনের কথা: একাত্ম হওয়ার গোপন সূত্র

কোনো বাদ্যযন্ত্র কেবল কাঠ বা ধাতু দিয়ে তৈরি একটি বস্তু নয়, এটি যেন একজন শিল্পীর আত্মার প্রতিচ্ছবি। যখন আপনি কোনো যন্ত্র বাজান, তখন কেবল সুরই বের হয় না, বের হয় আপনার ভেতরের অনুভূতি, আপনার মনের কথা। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আমি কোনো যন্ত্রের সাথে মানসিকভাবে একাত্ম হয়ে যাই, তখন বাজানোটা আর কঠিন মনে হয় না, বরং মনে হয় যেন যন্ত্রটি আমারই একটা অংশ। এই একাত্মতা তৈরি করতে সময় লাগে, ধৈর্য লাগে। দিনের পর দিন অনুশীলনের মাধ্যমে যন্ত্রের প্রতিটি তার, প্রতিটি ছিদ্র, প্রতিটি অংশ আপনার পরিচিত হয়ে ওঠে। তখন যন্ত্রটি আপনার প্রতিটি ইঙ্গিত বুঝতে পারে এবং আপনার মনের ভাবকে সুরে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। এই অনুভূতিটা সত্যিই অসাধারণ, যা একজন শিল্পীকে তার বাজানোকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। এটি কেবল একটি শারীরিক দক্ষতা নয়, এটি একটি মানসিক এবং আত্মিক সংযোগ।

ধ্যান ও একাগ্রতা: সুরের গভীরতা অন্বেষণ

বাদ্যযন্ত্র শেখার সময় ধ্যান ও একাগ্রতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন অনুশীলন করেন, তখন কেবল হাত-পায়ের নড়াচড়া বা আঙুলের কৌশলই শিখছেন না, শিখছেন আপনার মনকে শান্ত রাখতে। আমি যখন সেতার বাজাই, তখন চেষ্টা করি আমার আশেপাশের সব কোলাহল ভুলে কেবল সুরের জগতে হারিয়ে যেতে। এতে করে মন শান্ত থাকে এবং সুরের গভীরতা আরও ভালোভাবে অনুভব করা যায়। প্রতিদিনের অনুশীলনে কিছু সময় এমনভাবে কাটানো উচিত যখন আপনি কেবল যন্ত্রের সাথে থাকেন, আর কোনো চিন্তা আপনাকে স্পর্শ করে না। এই ধ্যান আপনাকে সুরের প্রতিটি সূক্ষ্মতাকে ধরতে সাহায্য করবে এবং আপনার বাজানোকে আরও হৃদয়গ্রাহী করে তুলবে। একজন দক্ষ শিল্পী তখনই হয়ে ওঠা যায়, যখন সে কেবল যন্ত্র বাজানোয় দক্ষ হয় না, বরং তার মনও সুরের সাথে একাত্ম হয়। এই একাগ্রতাই আপনাকে সাধারণ বাজানো থেকে অসাধারণ বাজানোয় নিয়ে যেতে পারে।

নিজের ছন্দ খুঁজে বের করা: আত্মপ্রকাশের মাধ্যম

প্রতিটি শিল্পীর নিজস্ব একটা ছন্দ থাকে, একটা নিজস্ব বাজানোর স্টাইল থাকে। একজন ভালো শিল্পী কেবল অন্যের বাজানো অনুকরণ করেন না, বরং নিজের একটা স্টাইল তৈরি করেন। আপনি যখন যন্ত্রের সাথে একাত্ম হয়ে যান, তখন আপনার ভেতরের সেই নিজস্ব ছন্দটা বেরিয়ে আসে। এটা অনেকটা আপনার নিজস্ব ভাষার মতো। আপনি যেমন আপনার নিজস্ব ভঙ্গিতে কথা বলেন, তেমনি যন্ত্র বাজানোর সময়ও আপনার নিজস্ব একটা স্টাইল তৈরি হবে। এই স্টাইলই আপনাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলবে এবং আপনার শিল্পকে এক অনন্য মাত্রা দেবে। প্রথম দিকে হয়তো আপনি আপনার গুরু বা প্রিয় শিল্পীর বাজানো অনুসরণ করবেন, কিন্তু ধীরে ধীরে আপনার নিজস্ব একটা কণ্ঠস্বর তৈরি হবে। এই কণ্ঠস্বরই আপনাকে একজন সত্যিকারের শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এটা অনেকটা আপনার ব্যক্তিত্বকে সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করার মতো।

শিখতে শুরু করার আগে: সঠিক প্রস্তুতি ও মানসিকতা

কোনো ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র শেখার আগে সঠিক প্রস্তুতি এবং মানসিকতা থাকাটা খুব জরুরি। অনেকেই প্রথম দিকে খুব উৎসাহ নিয়ে শুরু করেন, কিন্তু কিছুদিন পর ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বলে, শেখার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা উচিত। প্রথমত, একটি ভালো যন্ত্র নির্বাচন করা। বাজারে অনেক ধরনের যন্ত্র পাওয়া যায়, কিন্তু আপনার জন্য কোনটি সবচেয়ে ভালো হবে, তা একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নিয়ে ঠিক করা উচিত। দ্বিতীয়ত, একজন ভালো গুরু বা শিক্ষক খুঁজে বের করা। এই যন্ত্রগুলো শেখার জন্য গুরু-শিষ্য পরম্পরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অনেক সূক্ষ্ম বিষয় আছে যা কেবল একজন গুরুর কাছ থেকেই শেখা যায়। আর তৃতীয়ত, মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া। এটা কোনো শর্টকাট রাস্তা নয়, এর জন্য চাই দিনের পর দিন সাধনা আর অনুশীলন। ধৈর্য ধরে শেখার মানসিকতা না থাকলে আপনি কখনোই ভালো বাজাতে পারবেন না।

গুরু নির্বাচন: শেখার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

একজন ভালো গুরু নির্বাচন করাটা আপনার শেখার যাত্রার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র শেখার ক্ষেত্রে গুরু-শিষ্য সম্পর্কটা কেবল শিক্ষক-ছাত্রের সম্পর্ক নয়, এটি তার চেয়েও বেশি কিছু। আমি যখন আমার প্রথম গুরুর কাছে গিয়েছিলাম, তখন তিনি কেবল আমাকে সুর শেখাননি, শিখিয়েছিলেন কীভাবে একজন ভালো মানুষ হতে হয়, কীভাবে নিজের যন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হয়। গুরু আপনাকে কেবল বাজানোর কৌশলই শেখাবেন না, শেখাবেন সুরের দর্শন, এর পেছনের ইতিহাস। একজন অভিজ্ঞ গুরু আপনার ভুলগুলো ধরতে পারবেন এবং আপনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। অনলাইনে অনেক টিউটোরিয়াল পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু একজন জীবন্ত গুরুর সান্নিধ্যের বিকল্প নেই। কারণ গুরু আপনার ব্যক্তিগত সমস্যাগুলো বুঝতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী আপনাকে দিকনির্দেশনা দিতে পারবেন।

ধৈর্য ও অনুশীলন: সাফল্যের মূলমন্ত্র

ধৈর্য এবং নিয়মিত অনুশীলন ছাড়া কোনো ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র শেখা সম্ভব নয়। অনেকেই ভাবেন, এক-দু’মাসে সব শিখে ফেলবেন, কিন্তু এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। প্রতিদিন অল্প অল্প করে অনুশীলন করাটা খুব জরুরি। আমি যখন প্রথম সেতার বাজানো শুরু করি, তখন প্রথম কয়েক মাস শুধু মৌলিক বিষয়গুলোই অনুশীলন করেছিলাম। মনে রাখবেন, তাড়াহুড়ো করে শিখতে গেলে আপনার ভিত্তি দুর্বল থেকে যাবে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা অনুশীলন করার চেষ্টা করুন। আর যদি কোনোদিন খুব ক্লান্ত থাকেন, তাহলেও অন্তত ১০-১৫ মিনিট যন্ত্রটি হাতে নিন। এতে আপনার আঙুলের নমনীয়তা বজায় থাকবে এবং যন্ত্রের সাথে আপনার সম্পর্ক ছিন্ন হবে না। ধৈর্য ধরে লেগে থাকলেই একদিন আপনি আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন।

Advertisement

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে: সুরের ধারা বজায় রাখা

আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলো শুধু আমাদের অতীত নয়, আমাদের ভবিষ্যৎও। এই সুরের ধারাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে নিয়ে যাওয়াটা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমি নিজে যখন বিভিন্ন কর্মশালায় বা উৎসবে তরুণদের এই যন্ত্রগুলো বাজাতে দেখি, তখন খুব আনন্দ পাই। মনে হয় যেন আমাদের সংস্কৃতি বেঁচে আছে, তারুণ্যের মধ্যে নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এই ধারা বজায় রাখার জন্য আমাদের কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন, স্কুল-কলেজে এই যন্ত্রগুলো শেখানোর ব্যবস্থা করা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, যাতে তরুণরা অনুপ্রাণিত হয়। আমাদের বড়দেরও উচিত এই যন্ত্রগুলো সম্পর্কে শিশুদের আগ্রহী করে তোলা, তাদের হাতে একটি বাঁশি বা একতারা তুলে দেওয়া। ছোটবেলা থেকে এই যন্ত্রগুলোর সাথে পরিচিত হলে তাদের মনে একটা ভালোবাসা তৈরি হবে। এটি কেবল একটি সাংস্কৃতিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়কে টিকিয়ে রাখারও এক মাধ্যম।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মশালা: নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র শেখানোর ব্যবস্থা করাটা খুব জরুরি। অনেক স্কুলেই এখন নাচ-গানের ক্লাস হয়, কিন্তু সেখানে যদি আমাদের নিজস্ব যন্ত্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাহলে অনেক সুবিধা হবে। আমি যখন বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ওয়ার্কশপ করতে যাই, তখন দেখি ছাত্র-ছাত্রীরা কতটা আগ্রহী হয়। তাদের হাতে যখন একটি একতারা বা বাঁশি তুলে দিই, তখন তাদের চোখগুলো ঝলমল করে ওঠে। এই ধরনের ওয়ার্কশলাগুলো তাদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করে এবং তাদের এই যন্ত্রগুলো শেখার জন্য অনুপ্রাণিত করে। এছাড়া, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন এই ধরনের ক্লাস বা ওয়ার্কশপের আয়োজন করতে পারে। এতে করে ঐতিহ্যবাহী যন্ত্রগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে আরও সহজে পৌঁছাতে পারবে। এই উদ্যোগগুলো আমাদের সুরের ঐতিহ্যকে সজীব রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

উত্সব ও প্রতিযোগিতা: শিল্পীদের জন্য মঞ্চ তৈরি

ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের জন্য নিয়মিত উৎসব ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা শিল্পীদের জন্য এক দারুণ সুযোগ তৈরি করে। এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলোতে শিল্পীরা তাদের প্রতিভা প্রদর্শনের সুযোগ পান এবং নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠেন। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন এই ধরনের উৎসবগুলোতে যেতাম আর দেখতাম কীভাবে বড় শিল্পীরা বাজান। তাদের দেখে আমারও ইচ্ছে হতো একদিন তাদের মতো করে বাজাতে। এই উৎসবগুলো কেবল বিনোদনই দেয় না, বরং এটি একটি শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতা তরুণ শিল্পীদের মধ্যে এক ধরনের স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি করে এবং তাদের আরও ভালো বাজানোর জন্য উৎসাহিত করে। এতে করে আমাদের ঐতিহ্যবাহী যন্ত্রগুলো আরও বেশি মানুষের কাছে পরিচিতি পায় এবং এর জনপ্রিয়তা বাড়ে। এই ধরনের মঞ্চগুলো ছাড়া একজন শিল্পীর পক্ষে নিজেকে প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন।

সুরের জাদুতে ক্যারিয়ার: ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ভবিষ্যৎ

ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। একসময় হয়তো এই ক্ষেত্রটিতে খুব বেশি সুযোগ ছিল না, কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। একজন শিল্পী কেবল মঞ্চে পরিবেশনাই করেন না, বরং শেখানো, মিউজিক প্রোডাকশন, ফিউশন মিউজিক তৈরি—এমন অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন। আমি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, সঠিক দক্ষতা এবং পরিশ্রম থাকলে এই ক্ষেত্রটিতেও ভালো আয় করা সম্ভব। অনেক সময় আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও আমাদের শিল্পীদের কদর বাড়ছে। বিভিন্ন মিউজিক কোম্পানি এবং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এখন ঐতিহ্যবাহী সুরের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। তাই যারা এই যন্ত্রগুলো শিখতে আগ্রহী, তারা নির্ভয়ে এই ক্ষেত্রটিকে তাদের ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নিতে পারেন। তবে এর জন্য অবশ্যই নিজেকে ভালোভাবে প্রস্তুত করতে হবে এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজের দক্ষতাগুলোকে শাণিত করতে হবে।

আয়ের বিভিন্ন উৎস: শুধু বাজানো নয়, আরও অনেক কিছু

ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের একজন শিল্পী হিসেবে আয়ের অনেকগুলো উৎস তৈরি হতে পারে। শুধুমাত্র মঞ্চে পরিবেশনা করাই একমাত্র পথ নয়। যেমন, অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বা টিউটোরিয়াল ভিডিও তৈরি করা। আমি নিজে আমার ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত টিউটোরিয়াল ভিডিও আপলোড করি এবং সেখান থেকে আমার একটি ভালো আয়ের উৎস তৈরি হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন স্টুডিওতে সেশন মিউজিশিয়ান হিসেবে কাজ করা, বিজ্ঞাপন বা চলচ্চিত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক তৈরি করা, এমনকি আধুনিক গানের সাথে ফিউশন মিউজিক তৈরি করাও সম্ভব। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো এখন ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীতজ্ঞদের খুঁজছে বিভিন্ন কর্পোরেট ইভেন্ট বা বিবাহ অনুষ্ঠানে বাজানোর জন্য। তাই একজন শিল্পী যদি সৃজনশীল হন এবং নিজেকে বিভিন্ন দিকে প্রসারিত করতে পারেন, তাহলে তার জন্য আয়ের অভাব হবে না।

বাজারের চাহিদা বোঝা: দক্ষতা বাড়ানোর সঠিক পথ

ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ক্ষেত্রেও বাজারের চাহিদা বোঝাটা খুব জরুরি। এখন শ্রোতারা কোন ধরনের সুর পছন্দ করছেন, কোন যন্ত্রের চাহিদা বেশি—এগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকা দরকার। যেমন, বর্তমানে আধুনিক গানের সাথে বাঁশি বা সেতারের ফিউশন বেশ জনপ্রিয়। তাই আপনি যদি এই ধরনের ফিউশন বাজানোয় পারদর্শী হতে পারেন, তাহলে আপনার সুযোগ অনেক বাড়বে। নিজেকে কেবল একটি নির্দিষ্ট ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন ধরনের সংগীতে নিজেকে যুক্ত করার চেষ্টা করুন। এতে আপনার দক্ষতা বাড়বে এবং আপনি আরও বেশি সুযোগ পাবেন। নিয়মিত বিভিন্ন মিউজিক ফেস্টিভ্যাল বা কনসার্টে যাওয়া উচিত, এতে নতুন নতুন ট্রেন্ড সম্পর্কে জানতে পারবেন। মনে রাখবেন, একজন শিল্পী হিসেবে নিজেকে সবসময় আপডেটেড রাখাটা খুব জরুরি, ঠিক যেমন অন্য যেকোনো পেশায়।

Advertisement

전통 악기 연주 기법 관련 이미지 2

অনুশীলনের গুরুত্ব: নিখুঁত সুরের চাবিকাঠি

যে কোনো শিল্পে পারদর্শী হতে হলে অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই, আর বাদ্যযন্ত্রের ক্ষেত্রে তো এটি আরও বেশি সত্যি। আমি যখন কোনো শিল্পী বাদ্যযন্ত্রে অসাধারণ কিছু করে দেখান, তখন তার পেছনের দিনের পর দিন নীরব সাধনা আর কঠোর অনুশীলনটাই বড় হয়ে ওঠে। প্রথম দিকে হয়তো মনে হয়, আমি কি পারব? আমার আঙুলগুলো কি এতটাই নমনীয় হবে? কিন্তু নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমেই এই অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। একটি যন্ত্রকে আপনার শরীরের অংশ করে তুলতে চাইলে আপনাকে তার সাথে সময় কাটাতে হবে, তার প্রতিটি সুরকে চিনতে হবে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, প্রতিদিনের অল্প সময়ের অনুশীলনও আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। নিখুঁত সুর বাজানোর জন্য আঙুলের নমনীয়তা, তালের জ্ঞান এবং সুরের সঠিক প্রয়োগ – এই সব কিছু আসে কেবল লাগাতার অনুশীলনের মাধ্যমে।

নিয়মিত রুটিন: অভ্যাসের শক্তি

নিয়মিত অনুশীলন রুটিন তৈরি করা এবং তা অনুসরণ করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে অনুশীলন করেন, তাহলে তা আপনার অভ্যাসে পরিণত হবে এবং আপনি আর এটিকে চাপ মনে করবেন না। আমি প্রতিদিন সকালে অন্তত এক ঘণ্টা করে সেতার বাজাই। এতে আমার মনও শান্ত থাকে এবং দিনের শুরুটা খুব সুন্দর হয়। আপনার রুটিনে মৌলিক অনুশীলন, নতুন কিছু শেখা এবং পুরনো শেখা বিষয়গুলো পুনরাবৃত্তি করার জন্য সময় রাখুন। অনেক সময় আমরা তাড়াহুড়ো করে নতুন কিছু শিখতে যাই, কিন্তু এতে পুরনো বিষয়গুলো ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই প্রতিটি অংশের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা উচিত। এই নিয়মিত রুটিন আপনার দক্ষতাগুলোকে শাণিত করবে এবং আপনাকে একজন দক্ষ শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলবে।

ভুল থেকে শেখা: উন্নতির পথ

অনুশীলন করার সময় ভুল হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। ভুল করলে হতাশ না হয়ে বরং সেই ভুলগুলো থেকে শেখার চেষ্টা করুন। আমি যখন প্রথম সেতার বাজাতাম, তখন অনেক ভুল করতাম। কিন্তু আমার গুরুজী আমাকে বলেছিলেন, “ভুল না করলে শিখতে পারবে না।” প্রতিটি ভুলই আপনাকে শেখার এক নতুন সুযোগ দেয়। আপনার বাজানো রেকর্ড করে শুনতে পারেন এবং আপনার ভুলগুলো চিহ্নিত করতে পারেন। এরপর সেই ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার জন্য আরও বেশি অনুশীলন করুন। আপনার ভুলগুলো আপনার শিক্ষক বা বন্ধুর সাথে আলোচনা করতে পারেন, তারা আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন। মনে রাখবেন, ভুল করা মানেই আপনি চেষ্টা করছেন। যে চেষ্টা করে না, সে কখনো ভুলও করে না। তাই ভুলগুলোকে উন্নতির সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করুন।

যন্ত্রের নাম প্রকার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
একতারা তারযুক্ত এক তারের এই লোকবাদ্যযন্ত্রটি বাউল গান ও লোকসংগীতে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত নারকেল বা লাউয়ের খোসা দিয়ে তৈরি হয়।
বাঁশি বায়ুযুক্ত বাঁশ দিয়ে তৈরি এই যন্ত্রটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এর মিষ্টি সুর মনের গভীরে এক প্রশান্তি এনে দেয়।
সেতার তারযুক্ত শাস্ত্রীয় সংগীতে ব্যবহৃত অন্যতম প্রধান তারযুক্ত বাদ্যযন্ত্র। এর অনেকগুলো তার থাকে এবং এতে জটিল সুর বাজানো যায়।
তবলা তালযুক্ত দুটি ভিন্ন আকারের ড্রামের সমন্বয়ে গঠিত একটি তালবাদ্যযন্ত্র। ভারতীয় শাস্ত্রীয় ও লোকসংগীতে এটি অপরিহার্য।
সরোদ তারযুক্ত সেতারের মতো আরেকটি তারযুক্ত বাদ্যযন্ত্র, যা সাধারণত শাস্ত্রীয় সংগীতে ব্যবহৃত হয়। এর সুর গভীর ও গম্ভীর।

আপনার আবেগ ও গল্পকে সুরে পরিণত করা

একজন শিল্পী যখন কোনো বাদ্যযন্ত্র বাজান, তখন তিনি কেবল সুরই তৈরি করেন না, তিনি তার ভেতরের গল্প আর অনুভূতিগুলোকেও প্রকাশ করেন। প্রতিটি সুরের পেছনে থাকে শিল্পীর নিজস্ব এক জগত, তার আনন্দ, দুঃখ, সংগ্রাম—সবকিছু। আমার জীবনে এমন অনেক সময় এসেছে যখন আমি কথা দিয়ে আমার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারিনি, তখন আমার সেতার বা বাঁশি আমার হয়ে কথা বলেছে। এটা সত্যিই এক জাদুর মতো। আপনি যখন আপনার যন্ত্রের সাথে একাত্ম হয়ে যান, তখন যন্ত্রটি আপনারই এক বর্ধিত অংশ হয়ে ওঠে, যা আপনার মনের প্রতিটি সূক্ষ্ম অনুভূতিকে সুরে পরিণত করে। এই কাজটি করতে পারাটা একজন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে বড় পাওয়া। শ্রোতারা যখন আপনার বাজানো শুনে আপনার ভেতরের অনুভূতিগুলো বুঝতে পারেন, তখন এর চেয়ে বড় আর কোনো প্রশংসা হতে পারে না।

সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবন: নিজের সুর তৈরি

শুধুমাত্র অন্যের সুর বাজানো নয়, নিজের সৃজনশীলতা ব্যবহার করে নতুন সুর তৈরি করাও একজন শিল্পীর অন্যতম কাজ। ঐতিহ্যবাহী যন্ত্রগুলোর নিজস্ব এক ব্যাকরণ আছে, কিন্তু সেই ব্যাকরণের ভেতরে থেকেই আপনি নিজের মতো করে নতুন সুর তৈরি করতে পারেন। এটা অনেকটা একটি ভাষা শেখার মতো—একবার যখন আপনি এর নিয়মকানুন জেনে যান, তখন আপনি নিজের মতো করে বাক্য তৈরি করতে পারেন, গল্প লিখতে পারেন। আমার নিজের তৈরি করা কিছু সুর যখন আমি প্রথম বাজিয়েছিলাম, তখন এক অদ্ভুত আনন্দ অনুভব করেছিলাম। মনে হয়েছিল যেন আমি আমার নিজের একটি অংশকে পৃথিবীতে রেখে যাচ্ছি। এই সৃজনশীলতাই একজন শিল্পীকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে এবং তার শিল্পকে এক নতুন মাত্রা দেয়। ভয় না পেয়ে নিজের মনের কথাগুলো সুরে প্রকাশ করার চেষ্টা করুন।

সুরের মাধ্যমে যোগাযোগ: শ্রোতাদের সাথে বন্ধন

সঙ্গীত কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি যোগাযোগের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আপনি যখন আপনার যন্ত্র বাজান, তখন আপনি কেবল সুরই তৈরি করেন না, আপনি আপনার শ্রোতাদের সাথে একটি আবেগিক বন্ধন তৈরি করেন। শ্রোতারা আপনার সুরের মাধ্যমে আপনার অনুভূতিগুলোকে অনুভব করতে পারেন, আপনার গল্পগুলো শুনতে পারেন। অনেক সময় এমন হয় যে, আমি মঞ্চে বাজানোর সময় দেখি শ্রোতাদের চোখে জল চলে এসেছে বা তারা হাসছে। এই প্রতিক্রিয়াগুলোই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আপনার সুর যখন শ্রোতাদের মনকে ছুঁয়ে যায়, তখন আপনি অনুভব করবেন যে আপনার সাধনা সার্থক হয়েছে। এই ধরনের যোগাযোগই সঙ্গীতকে এত শক্তিশালী করে তোলে এবং একে মানুষের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গড়ে তোলে।

Advertisement

글을মাচি며

বন্ধুরা, আমাদের এই সুরের যাত্রা হয়তো এখানেই এক প্রস্থ বিরতি নিচ্ছে, কিন্তু আমাদের ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসা বা এর সুরকে অনুভব করার আকাঙ্ক্ষা কখনও শেষ হওয়ার নয়। এই বাদ্যযন্ত্রগুলো কেবল কাঠ বা তারের সমষ্টি নয়, এগুলি আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, আমাদের পূর্বপুরুষদের গল্প আর হৃদয়ের স্পন্দন। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখনই আমি কোনো ঐতিহ্যবাহী যন্ত্র হাতে নিই, মনে হয় যেন শত বছরের ইতিহাস আমার আঙুলের ডগায় প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। আশা করি, আমার এই অনুভূতি আর আলোচনা আপনাদের মনেও ঐতিহ্যকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে পেরেছে। আসুন, আমরা সবাই মিলে এই অমূল্য সাংস্কৃতিক সম্পদকে বাঁচিয়ে রাখি এবং আগামী প্রজন্মের কাছে এর মাধুর্য পৌঁছে দিই, যাতে আমাদের সুরের ধারা চিরন্তন বয়ে চলে।

알아두면 쓸모 있는 정보

আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের জাদুকে আরও গভীরভাবে জানতে ও নিজেদের দক্ষতাকে শাণিত করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস মনে রাখতে পারেন:

১. যন্ত্র নির্বাচনের সময় তাড়াহুড়ো না করে একজন অভিজ্ঞ শিল্পীর পরামর্শ নিন। ভালো যন্ত্র আপনার শেখার প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করে তুলবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে আগ্রহ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।

২. প্রতিদিন নিয়মিত অনুশীলনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন। অল্প সময় হলেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখাটা খুব জরুরি, কারণ এটি আপনার আঙুলের নমনীয়তা ও সুরের বোধ তৈরি করবে।

৩. ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেমন ইউটিউব বা ফেসবুক, ব্যবহার করে আপনার বাজানো বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিন। এটি কেবল আপনার পরিচিতি বাড়াবে না, বরং নতুন আয়ের উৎস এবং আরও শিক্ষার্থী খুঁজে পেতেও সহায়তা করবে।

৪. ঐতিহ্যবাহী সুরের পাশাপাশি আধুনিক বা ফিউশন সঙ্গীতেও এই যন্ত্রগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে নতুন প্রজন্মের শ্রোতারা এই যন্ত্রগুলোর প্রতি আগ্রহী হবে এবং এর আবেদন আরও বাড়বে।

৫. শুধুমাত্র বাজানোই নয়, যন্ত্রের ইতিহাস, এর নির্মাণশৈলী এবং এর পেছনের গল্পগুলো সম্পর্কে জানুন। এটি যন্ত্রের প্রতি আপনার শ্রদ্ধা বাড়াবে এবং আপনার বাজানোতে এক গভীরতা এনে দেবে।

Advertisement

중요 사항 정리

সবশেষে বলতে চাই, আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলো শুধু সাংস্কৃতিক নিদর্শন নয়, এগুলি আমাদের প্রাণের স্পন্দন। এদের যত্ন নেওয়া, শেখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াটা আমাদের সবার দায়িত্ব। একজন শিল্পী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা, আবেগ এবং সাধনাকে সুরের মাধ্যমে প্রকাশ করাই সবচেয়ে বড় শিল্প। নিয়মিত অনুশীলন, একজন ভালো গুরুর সান্নিধ্য এবং আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এই যন্ত্রগুলোকে উপস্থাপন করার মাধ্যমেই আমরা আমাদের ঐতিহ্যবাহী সুরের ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করতে পারি। মনে রাখবেন, আপনার বাজানো কেবল একটি সুর নয়, এটি একটি গল্প, একটি ইতিহাস, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে যাবে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: আধুনিক যুগে আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য আপনার মতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলো কী কী?

উ: আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলো, যেমন সেতার, সরোদ, বাঁশি বা ঢোল, সত্যিই এক অমূল্য সম্পদ। কিন্তু আজকালকার ছেলেমেয়েদের কাছে এগুলোর আবেদন অনেকটাই কমে গেছে বলে মনে হয়। কীভাবে এদের আবার আলোর ঝলকানিতে ফিরিয়ে আনা যায়, সেটা নিয়ে আমিও অনেক ভেবেছি। আমার মনে হয়, দুটো জিনিসের ওপর জোর দিলে দারুণ ফল পাওয়া যাবে। প্রথমত, আধুনিক ফিউশন। আমি নিজে দেখেছি, যখন পুরনো দিনের সুরের সাথে নতুন জ্যাজ বা রক বীট মেশানো হয়, তখন তার একটা আলাদা আকর্ষণ তৈরি হয়। যেমন, একবার একটা অনুষ্ঠানে একটা সেতারকে ইলেকট্রিক গিটারের সাথে বাজানো হয়েছিল, সে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা!
শ্রোতারা তো মুগ্ধ। এতে শুধু নতুন প্রজন্মেরাই নয়, অনেক পুরনো দিনের মানুষও নতুন করে এই যন্ত্রগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সঠিক ব্যবহার। আজকাল সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া কোনো কিছুই ভাইরাল হয় না। আমরা যদি আমাদের এই বাদ্যযন্ত্রগুলোর পারফরম্যান্স, এদের ইতিহাস, বা শেখার মজার দিকগুলো ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপের মাধ্যমে টিকটক, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামে তুলে ধরি, তাহলে রাতারাতি একটা বড় পরিবর্তন আসতে পারে। আমি নিজে একবার একটা ছোট্ট বাঁশির টিউটোরিয়াল বানিয়েছিলাম, অবিশ্বাস্য সাড়া পেয়েছিলাম!
হাজার হাজার কমেন্ট আর শেয়ার, অনেকেই জানতে চেয়েছিলেন কোথায় শেখা যায়। আমার মনে হয়, এই যন্ত্রগুলোর পেছনের গল্পগুলো আর এদের থেকে বের হওয়া অসাধারণ সুরগুলোকে সহজভাবে সবার কাছে পৌঁছে দিতে পারলেই আমরা সফল হব। এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে যেন মনে হয় এটা একটা নতুন ট্রেন্ড, যা মিস করা মানেই কিছু একটা হারানো। এতে করে মানুষ যেমন আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানবে, তেমনি এই যন্ত্রগুলো নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।

প্র: ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতে গেলে একজন নতুন শিক্ষার্থীকে কোন বিষয়গুলিতে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে এবং আপনার ব্যক্তিগত পরামর্শ কী?

উ: যদি কেউ ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র শেখার কথা ভাবেন, তাহলে প্রথমেই তাকে আমি আমার অন্তর থেকে সাধুবাদ জানাই। এটা কেবল একটা যন্ত্র বাজানো শেখা নয়, বরং আমাদের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের গভীরে প্রবেশ করা। আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, একজন নতুন শিক্ষার্থীর জন্য প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ধৈর্য এবং নিবেদন। এই পথটা হয়তো দ্রুত সফলতার নয়, এখানে প্রতিটি সুর আয়ত্ত করতে বছরের পর বছর লেগে যেতে পারে। আমার প্রথম যখন সেতার শেখা শুরু করি, তখন মনে হয়েছিল এর চেয়ে কঠিন আর কিছু নেই। কতবার যে হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছি!
কিন্তু আমার গুরুজী সবসময় বলতেন, “বাদ্যযন্ত্রের সাথে মন দিয়ে কথা বলতে শেখো।” তার মানে হলো, শুধু আঙুল চালানো নয়, সুরের গভীরতা আর যন্ত্রের আত্মাকে অনুভব করা। দ্বিতীয়ত, একজন সঠিক গুরুর সান্নিধ্য অপরিহার্য। একজন ভালো গুরু শুধু বাজানো শেখান না, তিনি আপনাকে যন্ত্রের প্রতি ভালোবাসা আর শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করতে শেখান। তিনি আপনাকে ভুল শুধরে দিয়ে সঠিক পথে পরিচালিত করেন। আজকাল অনলাইনে অনেক টিউটোরিয়াল পাওয়া যায়, কিন্তু আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একজন গুরুর সরাসরি তত্ত্বাবধানের কোনো বিকল্প নেই। আমি নিজে যখন শিখেছিলাম, তখন গুরুর বাড়িতে থেকেই ঘন্টার পর ঘন্টা রেওয়াজ করতাম, যা আমার জীবনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছিল। তৃতীয়ত, নিয়মিত অনুশীলন। প্রতিদিন অল্প সময় হলেও যন্ত্র নিয়ে বসা খুব জরুরি। মনে রাখবেন, একদিনের রেওয়াজ দশদিনের অনিয়মিত রেওয়াজের চেয়ে ভালো। আর সবশেষে, এই শেখার প্রক্রিয়াটাকে উপভোগ করা। যখন প্রতিটি সুর আপনার হৃদয়ে আনন্দ দেবে, তখনই আপনি প্রকৃত অর্থে একজন শিল্পী হয়ে উঠবেন।

প্র: আমাদের লোকসংগীতে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলির ভূমিকা কতটা গভীর, এবং এর পেছনের কিছু অজানা গল্প কী কী?

উ: আমাদের লোকসংগীতের প্রাণভোমরা হলো ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলো। এদের ছাড়া যেন লোকসংগীতের কথা ভাবাই যায় না। প্রতিটি বাদ্যযন্ত্রের সাথে জড়িয়ে আছে হাজারো গল্প আর আমাদের মাটির গন্ধ। যেমন ধরুন, একতারা। এই একতারা ছাড়া বাউল গান যেন কল্পনাই করা যায় না। আমি যখন প্রথম একতারার সুর শুনি, আমার মনে হয়েছিল যেন ভেতরের সব দুঃখ আর আনন্দ মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। এটি কেবল একটি যন্ত্র নয়, এটি এক ধরনের দর্শন। একতারার পেছনে একটি খুব মজার গল্প আছে। অনেকেই বলেন, এটি আসলে বাংলার একতারা নয়, বরং এটি সৃষ্টি হয়েছিল সুদূর পারস্যে, সেখান থেকে সুফী সাধকদের মাধ্যমে এটি আমাদের বাংলায় আসে এবং লোকসংগীতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠে। আবার ধরুন, বাঁশি। এই বাঁশির সুর শুনলেই মনে হয় যেন গ্রামের মেঠো পথ, নদীর ধারে রাখাল আর দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠ চোখে ভাসে। বাঁশির এমন কিছু সুর আছে যা শুনলে চোখের কোণে জল চলে আসে, মনটা কেমন যেন উদাস হয়ে যায়। আমি নিজে একবার একজন প্রবীণ বাঁশিশিল্পীর কাছে শুনেছিলাম, তাদের পূর্বপুরুষেরা নাকি গভীর রাতে জঙ্গলে গিয়ে বাঁশি বাজাতেন, যাতে বুনো প্রাণীরা তাদের সুর শুনে শান্ত হয়। সে এক অসাধারণ গল্প!
এই যন্ত্রগুলো আমাদের জীবনের প্রতিটি ধাপে, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত, আনন্দ থেকে বিষাদ পর্যন্ত, সবখানে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে। যেমন ঢোল বা মন্দিরা ছাড়া তো পূজা-পার্বণ বা উৎসবের আনন্দই জমে না। আমার মনে হয়, এই যন্ত্রগুলো কেবল সুর তৈরি করে না, এরা আমাদের আবেগ, স্মৃতি আর ভালোবাসার গল্পগুলোকেও বাঁচিয়ে রাখে। এই গভীর সংযোগের কারণেই আমাদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলো আজও এত প্রাসঙ্গিক।

📚 তথ্যসূত্র